লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় বড় চাঞ্চল্য, অনলাইন গবেষণা ও ভুয়ো পরিচয়ে গড়ে উঠেছিল গোপন বিস্ফোরক ল্যাব

SHARE:

দেশের রাজধানী দিল্লিকে কাঁপিয়ে দেওয়া লালকেল্লা গাড়ি বিস্ফোরণ মামলায় তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা National Investigation Agency (এনআইএ) জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত Dr Umar Un Nabi দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে বিস্ফোরক তৈরির পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছিলেন এবং ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে রাসায়নিক ও বিশেষ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছিলেন।

গত বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লা এলাকার কাছে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরণের সময় গাড়িতে থাকা উমর উন নবিও মারা যান। এরপর থেকেই গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং বিস্ফোরক তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করে এনআইএ।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উমর হরিয়ানার ফরিদাবাদে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি ফ্ল্যাটে ছোট আকারের গোপন ল্যাব তৈরি করেছিলেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন রাসায়নিক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তিগত নথি এবং অফলাইন সূত্র থেকে তথ্য জোগাড় করে তিনি বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।

এনআইএ-র তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে উমর “রাহুল ভাট” নামে একটি ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। ওই নামে তিনি অনলাইন ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন রাসায়নিক, অ্যানোড, অ্যাসিটোন এবং অন্যান্য উপকরণ কেনার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের দাবি, বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু বিশেষ ইলেক্ট্রোড ও রাসায়নিকও এই পরিচয়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

একটি ডেলিভারি চালান থেকে জানা যায়, মুম্বইয়ের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল। প্রায় ২৫ হাজার টাকা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে পাঠানো হয় এবং পরে সেই সামগ্রী কুরিয়ারের মাধ্যমে ফরিদাবাদে পৌঁছে যায়। তদন্তে আরও জানা গেছে, সাধারণ লবণের দ্রবণ থেকে ক্লোরেট ও পারক্লোরেট তৈরির জন্য ইলেক্ট্রোলাইসিস পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই রাসায়নিকগুলি আতশবাজি এবং বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন যে উমর একা কাজ করছিলেন না। তাঁর সহযোগী হিসেবে Dr Muzammil Shakeel-এর নাম সামনে এসেছে। দু’জনে মিলে গত বছর গুজরাটের আহমেদাবাদে গিয়েছিলেন বিস্ফোরক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সংগ্রহ করতে।

এনআইএ-র দাবি, এই গোটা নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে Ansar Ghazwat-ul-Hind নামের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে, যা আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে উগ্রপন্থী জিহাদি সাহিত্য, বিস্ফোরক তৈরির নথি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ফাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দিল যে আধুনিক প্রযুক্তি ও অনলাইন তথ্য কীভাবে বিপজ্জনক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। একইসঙ্গে তারা মনে করছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নজরদারি আরও জোরদার করা দরকার, যাতে এ ধরনের কার্যকলাপ শুরু হওয়ার আগেই চিহ্নিত করা যায়।

Bangla Aaj kal
Author: Bangla Aaj kal

Leave a Comment

সবচেয়ে বেশি পড়ে গেছে