পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সম্প্রতি নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এবার এই প্রসঙ্গে সমর্থনের বার্তা দিলেন Mamata Banerjee এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তৃণমূলের বৈঠকে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ, বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বাড়তে থাকা প্রতিবাদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেই সময় ককরোচ জনতা পার্টির প্রসঙ্গ ওঠে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি এই আন্দোলনের মাধ্যমে উঠে আসা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই সাধারণ মানুষের আবেগ ও বাস্তব সমস্যাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাই সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনকে তিনি শুধুমাত্র হাস্যরস হিসেবে দেখছেন না, বরং তরুণদের হতাশা ও ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচনা করছেন।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা Abhijeet Dipke, যিনি বর্তমানে বোস্টনে থাকেন, দাবি করেছেন যে এই প্ল্যাটফর্ম মূলত তরুণদের বেকারত্ব, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনিয়ম এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতিবাদের একটি মাধ্যম। সম্প্রতি NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকেও সামনে এনে আন্দোলন আরও জোরদার করার চেষ্টা হয়।
তৃণমূল নেতাদের একাংশের মতে, দেশের বহু যুবক-যুবতী দীর্ঘদিন ধরে চাকরি ও শিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ক্ষোভ প্রতিদিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার না করে রাজনৈতিক দলগুলির উচিত তা বোঝার চেষ্টা করা।
অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল স্তরে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। যদিও সরকারি স্তরে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান আসলে তরুণ ভোটারদের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তিনি বোঝাতে চাইছেন যে মানুষের ক্ষোভকে দমন নয়, শোনা এবং বোঝা দরকার। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়া সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে, তখন ডিজিটাল আন্দোলনগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
তৃণমূলের ভেতরে এখন সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারছেন যে আগামী দিনের রাজনীতিতে ডিজিটাল জনমত বড় ভূমিকা নেবে।






