ধর্মতলায় তৃণমূলের মহামিছিলের ডাক, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

SHARE:

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে আসন্ন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে। দলের সর্বোচ্চ নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee আগামী দিনে কলকাতার ধর্মতলায় একটি বৃহৎ প্রতিবাদ সমাবেশের নেতৃত্ব দিতে চলেছেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়নি। দলের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম ঘটেছে, যার প্রভাব সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলের উপর পড়েছে। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, যদি নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-রও বেশি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হতো।

দলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে যে ভোট কারচুপি, ইভিএম সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বহু কর্মী ও সমর্থক হামলার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও তুলেছে শাসকদল।

এই পরিস্থিতিতে ধর্মতলার সমাবেশকে শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে এই সমাবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ধর্মতলার মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের আপত্তি, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিরোধী শিবির তৃণমূলের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনের ফলাফলকে মেনে নিতে না পেরেই শাসকদল বিভিন্ন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।

নির্বাচনের ফলাফল, নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই ধর্মতলার এই কর্মসূচি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনে এই আন্দোলন কতটা জনসমর্থন পায় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।

— বাংলা আজকাল নিউজ

Bangla Aaj kal
Author: Bangla Aaj kal

Leave a Comment

সবচেয়ে বেশি পড়ে গেছে