মানসিক জেদ এবং কঠিন অধ্যাবসায় সম্বল করে সফলতার কাহিনি লিখল পাঁশকুড়ার যুবক

SHARE:

 

কথায় আছে টালির ছাদের নীচে শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখতে নেই। কিন্তু টালির ছাদের নীচে শুয়ে নিজের মেধা ও কঠিন অধ্যাবসায় দিয়ে নিজের স্বপ্ন সফলভাবে পূরণ করল পাঁশকুড়ার এক যুবক।

 

পাঁশকুড়ার যুবক বাবা মায়ের সঙ্গে

পাঁশকুড়া: কথায় আছে টালির ছাদের নীচে শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখতে নেই। কিন্তু টালির ছাদের নীচে শুয়ে নিজের মেধা ও কঠিন অধ্যবসায় দিয়ে নিজের স্বপ্ন সফলভাবে পূরণ করল পাঁশকুড়ার এক যুবক। বাবা পেশায় ভ্যান টানেন, মা ঠোঙা তৈরি করেন। তাঁদেরই ছেলে বর্তমানে ডাক্তার। পাঁশকুড়ার রাজকুমার এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। তাঁর এই জার্নিটা খুব একটা সহজ ছিল না। স্বপ্ন তো সবাই দেখে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করাটা অনেকের কাছে অধরা থেকে যায়। ছোটবেলা থেকেই বরাবরের মেধাবী ছাত্রটির ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার। কঠিন অধ্যবসায় আর মনের জেদের হার মেনেছে পারিবারিক দারিদ্রতা। বর্তমানে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

 

পাঁশকুড়া পৌরসভার দক্ষিণ গোপালপুরের বাসিন্দা জয়দেব দে। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। ভ্যান ঠেলে কোনও রকমে রোজগার করেন। সংসারে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে বসবাস। ছেলে রাজকুমার ছোটবেলা থেকেই বরাবরই মেধাবী ছাত্র। সংসার চালাতে জয়দেব বাবুর স্ত্রী তৈরি করেন কাগজের ঠোঙা। ২০১৬ সালে আবাস যোজনার বাড়ি পেলে মাথা গোজার ঠাঁই পান তিনি। দুই ছেলেমেয়েকে মানুষের মত মানুষ করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এই ছোট টালির চালঘর থেকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নপূরণ। এই জার্নিটা খুব একটা সহজ ছিল না। ছেলে রাজকুমারের এই স্বপ্ন পূরণে গর্বিত বাবা মা সহপরিবার এবং এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন: ১৬০০ কোটি টাকা খরচ! গঙ্গার উপরে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক সেতু, রাজ্য পরিবহণে বিরাট বিপ্লব

বর্তমানে রাজকুমার দে ডেন্টিস্ট হিসাবে সফল হয়েছেন। কিন্তু তার লক্ষ্য ছিল প্রথম থেকেই এমবিবিএস ডাক্তার হওয়ার। তাই ২০২৫ সালের নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। আর তাতে র‍্যাঙ্ক হয়েছে ২৮। এখনও কাউন্সেলিং চলছে ফার্স্ট কাউন্সিলিংয়ে নাগপুরে গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেয়েছেন। রাজকুমারের মা জানান ছেলের পড়ার প্রতি একাগ্রতা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে বর্তমানে সে এই জায়গায়। তাঁর মা আরও জানায় পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করতে ভালোবাসে রাজকুমার। রাজকুমারের একজন বোনও রয়েছে সে সদ্য এমএ পাস করেছে।

রাজকুমার জানান, ‘আমার বাবা ভ্যান চালায় সেহেতু আমার টাকাপয়সার প্রথম থেকেই অভাব ছিল। তবে স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে টিউশন শিক্ষকরা আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। অনেক সময় আমাকে ফ্রিতেই পড়িয়েছেন। এমনকি অনেক এনজিও আমাকে সাহায্য করেছেন। পাশাপাশি পাঁশকুড়া থানাও একসময় এককালীন আর্থিক সাহায্য করেছিল। আর্থিক দুর্বলতা কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে, যদি কেউ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে, লক্ষ্য কি স্থির রেখে, এগিয়ে যেতে চায়, এমনকি যদি তাতে সঠিক উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে সে সফলতা পাবেই।’ রাজকুমারের এই জার্নি বর্তমান প্রজন্মের বহু শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

 

Bangla Aaj kal
Author: Bangla Aaj kal

Leave a Comment

সবচেয়ে বেশি পড়ে গেছে