অন্নপূর্ণা ভান্ডারের নতুন ফর্মকে নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ, একাধিক প্রশ্ন তুলছেন বাংলার মহিলারা।

SHARE:

পশ্চিমবঙ্গে “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার” প্রকল্পকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজ্যের হাজার হাজার মহিলার মধ্যে সম্প্রতি একটি নতুন ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক মহিলার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে কিছু রাজনৈতিক কর্মী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পাঠানো হবে। সেই সময় তাঁদের দিয়ে একটি আলাদা ফর্ম পূরণ করানো হয়েছিল। কিন্তু এখন হঠাৎ করে নতুন ও বিস্তারিত নথিপত্র চাওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গ্রামাঞ্চল থেকে শহর—সব জায়গাতেই মহিলারা জানতে চাইছেন, যখন আগে থেকেই আবেদন নেওয়া হয়েছিল, তখন আবার এত দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন কেন। মহিলাদের বক্তব্য, নতুন ফর্মে শুধু আবেদনকারীর তথ্য নয়, পুরো পরিবারের আর্থিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত তথ্যও চাওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের আয়, পরিচয়পত্র, ব্যাংকের তথ্য, সম্পত্তির বিবরণ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অনেক মহিলা উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, এত বিস্তারিত তথ্য নেওয়ার উদ্দেশ্য কী। তাঁদের প্রশ্ন, এই তথ্য কি শুধুমাত্র প্রকল্পের যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যেও ব্যবহার হতে পারে। মহিলাদের অভিযোগ, আগে তাঁদের বলা হয়েছিল যে খুব সহজেই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে, কিন্তু এখন প্রক্রিয়াটি এত জটিল করে তোলা হয়েছে যে সাধারণ পরিবারের পক্ষে সব নথি জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

কিছু সামাজিক সংগঠনও এই বিষয় নিয়ে সরব হয়েছে। তাদের বক্তব্য, যে কোনও সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি, তবে উপভোক্তাদের অযথা হয়রানি করা উচিত নয়। সংগঠনগুলির মতে, কোনও আবেদনে গরমিল থাকলে বা কেউ নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য না হলে, তার আলাদা করে তদন্ত করা যেতে পারে। কিন্তু সব মহিলাকে একসঙ্গে সন্দেহের চোখে দেখা ঠিক নয়।

রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনের সময় মহিলাদের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন তাঁদের নতুন নিয়ম ও জটিল ফর্মের মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সমর্থকদের বক্তব্য, যে কোনও প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

এদিকে বহু মহিলা দাবি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে যারা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন, তারা যেন সামনে এসে পরিস্থিতি পরিষ্কার করেন। তাঁদের বক্তব্য, যদি সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ কোনও প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, তবে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যকর করা উচিত। পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে হবে, যাতে দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মানুষদের বারবার সরকারি অফিসে ঘুরতে না হয়।

– কুনাল ঘোষ

Bangla Aaj kal
Author: Bangla Aaj kal

Leave a Comment

সবচেয়ে বেশি পড়ে গেছে