তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে সংঘটিত এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়েছিলেন। সেই সময় হঠাৎই একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি তাঁর কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা তাঁর দিকে ইট-পাটকেল, ডিম ছুড়ে মারে এবং অশালীন ভাষায় স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কিছু ব্যক্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শারীরিকভাবে আক্রমণেরও চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার তীব্রতা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে নিরাপত্তার স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি ক্রিকেট হেলমেট পরিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। নিরাপত্তারক্ষী ও দলের কর্মীদের তৎপরতায় তিনি বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা এবং বিজেপি সমর্থকরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর মতে, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ভাইরাল ভিডিও ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে। গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হামলার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর আঘাত গুরুতর নয় এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।
ঘটনার জেরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি এবং তৃণমূল নেতাদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। যদিও বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকেই তৃণমূল রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং ভাইরাল ভিডিওর সাহায্যে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং আগামী দিনে বিষয়টি নিয়ে আরও বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।





