রাম রহিমের ১৬তম প্যারোল ঘিরে ফের বিতর্ক, বিরোধীদের তোপ সরকারের বিরুদ্ধে

SHARE:

গুরমিত রাম রহিম সিং-কে আবারও ৩০ দিনের প্যারোল দেওয়া নিয়ে হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। ডেরা সাচা সৌদার প্রধান মঙ্গলবার সকালে রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বেরিয়ে সিরসায় অবস্থিত ডেরা সদর দফতরে পৌঁছেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একাধিক জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাম রহিম ২০১৭ সাল থেকে জেলে রয়েছেন। দুই মহিলা অনুগামিনীকে ধর্ষণের মামলায় আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এছাড়াও সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতি হত্যা মামলায় তিনি যাবজ্জীবন সাজাও ভোগ করছেন। তবুও গত কয়েক বছরে তাঁকে একাধিকবার প্যারোল ও ফার্লো দেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর এই নিয়ে ১৬তম বার রাম রহিম অস্থায়ী মুক্তি পেলেন। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে ৪০ দিনের প্যারোল দেওয়া হয়েছিল। বারবার এই ধরনের ছাড় পাওয়ায় বিরোধী দল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে বারবার প্যারোল দেওয়া সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। কয়েকজন বিরোধী নেতা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক সুবিধার কথা মাথায় রেখেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই প্যারোল অনুমোদন করা হয়েছে এবং এতে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব নেই।

ডেরা সাচা সৌদা-র হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও রাজস্থানে বিশাল প্রভাব রয়েছে। লক্ষ লক্ষ অনুসারী থাকায় সংগঠনটির সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। তাই রাম রহিমের প্রতিটি প্যারোল জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও এবার অত্যন্ত সতর্ক। ২০১৭ সালে রাম রহিম দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময় বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং সরকারি সম্পত্তিরও বড় ক্ষতি হয়। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এবার প্রশাসন আগেভাগেই নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

নারী অধিকার সংগঠন এবং মানবাধিকার কর্মীরাও এই প্যারোল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ধর্ষণের মতো অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বারবার মুক্তি দেওয়া ভুক্তভোগীদের জন্য হতাশাজনক হতে পারে। কয়েকটি সংগঠন প্যারোল নীতির পুনর্বিবেচনার দাবিও তুলেছে।

অন্যদিকে, রাম রহিমের সমর্থকদের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী একজন বন্দির যে অধিকার থাকে, তিনিও সেই সুবিধাই পাচ্ছেন। ডেরা সূত্রে দাবি, প্যারোলের সময় তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন এবং অনুসারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেরা সাচা সৌদার প্রভাব বহু বিধানসভা কেন্দ্রে দেখা যায়। ফলে রাম রহিমের মুক্তির প্রভাব রাজনৈতিক সমীকরণেও পড়তে পারে। সেই কারণেই তাঁর প্যারোল নিয়ে প্রতিবারই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

Bangla Aaj kal
Author: Bangla Aaj kal

Leave a Comment

সবচেয়ে বেশি পড়ে গেছে