বাসগুলি বাতানুকূল এবং পুশব্যাক আসনের সুবিধা সহকারে নকশা করা হয়েছে, যেখানে চালক ও কন্ডাক্টর সহ মোট ৪৫টি আসন রয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকেই শিলিগুড়ি, মালদহ, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং রায়গঞ্জ থেকে এই বাসগুলি দিঘায় নিয়মিত যাতায়াত করছে। শুরুর এই ছয় দিনেই যাত্রীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। প্রতিটি বাসে প্রায় ১০০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করায় এনবিএসটিসি-র আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে দিঘায় এনবিএসটিসি-র নিজস্ব কোন ডিপো না থাকায়, তারা প্রাথমিকভাবে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা (এসবিএসটিসি)-এর ডিপোর ওপর নির্ভরশীল। সেখানেই তাদের বাস টার্মিনাস এবং টিকিট কাউন্টার খোলা হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের ছয়টি জেলা শহরের বাস টার্মিনাসগুলি থেকেও দিঘা আসার বাসের টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং অনলাইন বুকিং পরিষেবাও চালু রয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য সুবিধা বয়ে এনেছে।
এনবিএসটিসি-র চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর দিঘার বাস টার্মিনাসের যাবতীয় বন্দোবস্ত ঘুরে দেখেন এবং যাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পার্থপ্রতিম রায় এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবহণ দপ্তরের এই বিপুল সাফল্যের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ এই বাস পরিষেবার ফলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সুবিধা হয়েছে। আমরা এক সপ্তাহে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। যাত্রীরা কাউন্টারে এসে কিংবা রেড বাস অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট কাটতে পারবেন।’
ভবিষ্যতে দিঘায় একটি নিজস্ব অফিস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এনবিএসটিসি-র। এসবিএসটিসি ডিপোর মন্দির লাগোয়া চালাঘরে এই পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া, শিলিগুড়ির মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও ছয়টি দিঘাগামী স্লিপার বাস চালুর কথা ঘোষণা করেছিলেন, যার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। এই বাসগুলি পাওয়া গেলে পরিষেবা আরও মজবুত হবে। যা নিঃসন্দেহে অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন বাস রুটগুলি থেকে মাত্র ছয় দিনে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা আয় হয়েছে, যা দৈনিক গড় আয়ের হিসাবে প্রায় এক লক্ষ টাকা। এনবিএসটিসি-র সূত্রে খবর, আগামী প্রায় এক মাস পর্যন্ত বাসগুলির টিকিট বুকিং সম্পূর্ণ হয়ে আছে। জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, রায়গঞ্জ, মালদহ থেকে বাস চলাচল করছে। বেসরকারি বাসের তুলনায় এই ভলভো বাসগুলির ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম রাখা হয়েছে এবং আগামী দুর্গাপুজো পর্যন্ত ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণাও করা হয়েছে। যা যাত্রীদের জন্য এক বাড়তি সুবিধা।






